সমাস ব্যাপারটা আমি তোমাকে খুব সহজ করে, খেলার ছলে বোঝানোর চেষ্টা করছি, যাতে একটা ১০ বছরের বাচ্চাও সহজে বুঝতে পারে।
প্রথমে জানি, সমাস কী?সমাস হলো দুটি বা তার বেশি শব্দকে একসাথে করে একটা ছোট শব্দ বানানোর খেলা।
যেমন: "দেশের সেবা" না বলে আমরা বলি "দেশসেবা"। কথা বলা সহজ হয়ে যায়।
এই খেলায় আমাদের ৬ জন খেলোয়াড় (সমাস) আছে। চলো, এবার তাদের সাথে পরিচয় করি:
ধরো, দুই বন্ধু হাত ধরাধরি করে হাঁটা শুরু করল। নতুন নামেও দু'জনের নামই শোনা যায়।
* চেনার উপায়: যখন দুটি শব্দেরই সমান গুরুত্ব থাকে। তুমি ব্যাসবাক্য (শব্দগুলোকে ভেঙে বললে) করলে মাঝখানে 'ও', 'এবং' বা 'আর' বসাতে পারবে।
* উদাহরণ:
* মা ও বাবা = মা-বাবা
* দিন ও রাত = দিন-রাত
* ভালো ও মন্দ = ভালো-মন্দ
২. তৎপুরুষ সমাস (The Last Man Standing - শেষজন শক্তিশালী)
ধরো, দুই বন্ধুর মধ্যে দ্বিতীয় বন্ধুটি বেশি শক্তিশালী, তাই নতুন শব্দে তার কথাই বেশি শোনা যায়। আর মাঝের ছোট ছোট কিছু শব্দ (বিভক্তি) হারিয়ে যায়।
* চেনার উপায়: নতুন শব্দে শুধু শেষ শব্দটির (পরপদ) অর্থই প্রধান হয়। ব্যাসবাক্য করার সময় মাঝখানে 'কে', 'দ্বারা', 'হইতে', 'এর', 'তে' এইরকম শব্দ দেখা যায়।
* উদাহরণ:
* বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন (এখানে বিপদ নয়, আপন্ন অর্থাৎ কষ্ট পাওয়াটাই প্রধান)
* রথ দ্বারা দেখা = রথদেখা (রথ নয়, দেখাই প্রধান)
* দেশের সেবা = দেশসেবা (দেশ নয়, সেবাই প্রধান)
ধরো, একজন খেলোয়াড় অন্য খেলোয়াড়ের গুণ বা কেমন তা বর্ণনা করছে।
* চেনার উপায়: একটি শব্দ অন্য শব্দটির গুণ বা অবস্থা বোঝায়, অথবা দুটি শব্দই একই জিনিস বা ব্যক্তিকে বোঝায়। ব্যাসবাক্য করার সময় মাঝখানে 'যে', 'যা', 'তাই', 'মতো' বা 'রূপ' এই ধরনের শব্দ আসে।
* উদাহরণ:
* নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম (পদ্ম কেমন? নীল)
* মহান যে নবী = মহানবী (নবী কেমন? মহান)
* চাঁদ-এর মতো মুখ = চাঁদমুখ (মুখ চাঁদের মতো)
খুব সহজ! প্রথম খেলোয়াড়টি সব সময় একটি সংখ্যা হয়।
* চেনার উপায়: প্রথম শব্দটি অবশ্যই একটি সংখ্যা হবে এবং সবটা মিলে একটি 'দল' বা 'সমষ্টি' বোঝাবে। ব্যাসবাক্যে 'সমাহার' শব্দটি থাকে।
* উদাহরণ:
* তিন মাথার সমাহার = তেমাথা (তে মানে তিন)
* পঞ্চ নদ এর সমাহার = পঞ্চনদ
* সাত দিন এর সমাহার = সপ্তাহ
এই খেলোয়াড় একটু চালাক। সে এমন একটি শব্দ তৈরি করে, যার অর্থ প্রথম বা দ্বিতীয় কোনো শব্দের সাথেই মেলে না! সে অন্য কাউকে ইঙ্গিত করে।
* চেনার উপায়: নতুন শব্দটির অর্থ সমাসের অন্তর্গত কোনো পদেরই অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়। ব্যাসবাক্যে সাধারণত 'যার', 'যেখানে', 'যাতে' এই ধরনের শব্দ থাকে।
* উদাহরণ:
* দশ আনন (মুখ) যার = দশানন (অর্থ দশটা মুখ নয়, রাবণকে বোঝানো হয়)
* বীণা পাণিতে (হাতে) যার = বীণাপাণি (বীণা বা হাত নয়, সরস্বতী দেবীকে বোঝানো হয়)
* পীত (হলুদ) অম্বর (বস্ত্র) যার = পিতাম্বর (হলুদ কাপড় নয়, শ্রীকৃষ্ণকে বোঝায়)
এই খেলায় প্রথম বন্ধুটি হলো অব্যয় (যেমন: আ, উপ, প্রতি, যথা)। সে এতটাই শক্তিশালী যে নতুন শব্দের পুরো অর্থটাই তাকে দিয়ে হয়।
* চেনার উপায়: প্রথম শব্দটি একটি অব্যয় (উপসর্গ-এর মতো শব্দ) হবে, এবং সেই অব্যয়ের অর্থটাই নতুন শব্দে প্রধান হবে।
* উদাহরণ:
* দিনের প্রতি = প্রতিদিন (প্রতি অব্যয়ের অর্থ 'বার বার' বা 'প্রত্যেক')
* কূলের সমীপে (পাশে) = উপকূল (উপ-এর অর্থ 'পাশে')
* ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ (দুর্-এর অর্থ 'অভাব')

.jpg)